OrdinaryITPostAd

বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায়

বিকাশ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকে টাকা পাঠানোর নিয়ম জানুন আজকের আর্টিকেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা আজকে আমরা আলোচনা করব বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায় সেটা নিয়ে।আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়লে আপনি জানতে পারবেন বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা বিকাশে পাঠানো যাবে, নিরাপদে টাকা পাঠানোর নিয়ম, খরচ, সুবিধা অসুবিধা ইত্যাদি সহ আরো অনেক কিছু।

বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায়

প্রবাসীরা বিদেশ থেকে তাদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য সহজ মাধ্যম খোঁজে। বিকাশ হচ্ছে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর একটি সহজ মাধ্যম। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানে না বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায়। আজকে আপনাদের সাথে বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পেইজ সূচীপত্রঃ সহজ পদ্ধতিতে নিরাপদে এবং দ্রুত বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায় জেনে নিন।

বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায়

বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায়

প্রবাসীরা অনেক কষ্ট করে বিদেশে টাকা উপার্জন করেন। বিভিন্ন মাধ্যমে সেই টাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশে পাঠান। এ সকল মাধ্যমের মধ্যে বিকাশ হচ্ছে অন্যতম নিরাপদ ও সহজ একটি মাধ্যম। তাই প্রবাসীদের অনেকেই জানতে চান বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায়। বিদেশ থেকে আপনার টাকা পাঠানো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করার জন্য আজকে আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। আসুন তাহলে জেনে নিন বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা বিকাশে পাঠাতে পারবেন।

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর সর্বোচ্চ সীমা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যার মধ্যে রয়েছে-

  • রেমিটেন্স পার্টনারঃ বিকাশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার সংস্থার সাথে কাজ করে। তাদের পাঠানো অর্থের সীমা বিভিন্ন হতে পারে। 
  • নিয়ম-কানুনঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম কানুন এবং বিকাশের নিজস্ব নীতিমালার উপরও বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর সর্বোচ্চ সীমা নির্ভর করে । 
  • প্রাপকের বিকাশ একাউন্টঃ যার বিকাশ একাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে তার বিকাশ একাউন্টে দৈনিক ও মাসিক লেনদেনের উপরও বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর সর্বোচ্চ সীমা নির্ভর করে। 
  •  প্রাপকের বিকাশ একাউন্টে ধরনঃ প্রাপকের বিকাশ একাউন্টের ধরনের উপর ভিত্তি করেও বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর সীমা ভিন্ন হতে পারে। যেমন- আপনার ব্যক্তিগত একাউন্ট এবং ব্যবসায়িক একাউন্টের জন্য টাকা পাঠানোর সীমা আলাদা হতে পারে। 

তবে আপনাদের জন্য বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর লিমিট সম্পর্কে এখানে কিছু সাধারণ তথ্য তুলে ধরা হলোঃ

  • বর্তমানে ৫২ টি দেশের মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান থেকে নিজ বিকাশ একাউন্টে টাকা এনে দেশে থাকা প্রিয়জনের নাম্বারে সেন্ড মানি এবং মোবাইল রিচার্জ করতে পারবেন। 
  • রেমিটেন্সের টাকা সরাসরি বোনাসসহ জমা হয়ে যাবে আপনার বিকাশ একাউন্টে। আর আপনি বোনাস পেয়ে যাবেন হাজারে ২৫ টাকা। 
  • বিকাশ বর্তমানে তাদের গ্রাহকদের জন্য বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর সীমা নির্ধারণ করেছে। এই সীমা অনুযায়ী, একজন প্রবাসী একবারে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠাতে পারবেন। তবে, এই সীমা বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য বিকাশের ওয়েবসাইট বা হেল্পলাইন থেকে আপডেট তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 
  • বিকাশ একাউন্টে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অ্যাডমানি করা যাবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০ বার এডমানি করতে পারবেন। এভাবে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫০ বার, সর্বমোট ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত এডমানি করতে পারবেন। 

বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায় সে সম্পর্কে জেনে আপনি নিশ্চয়ই উপকৃত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্যের জন্য, বিকাশের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে দেখুন অথবা বিকাশে গ্রাহক সেবার সাথে যোগাযোগ করুন। 

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর নিয়ম

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠাতে চাইলে আপনাকে জানতে হবে বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর নিয়ম সম্পর্কে। তাহলে সহজেই আপনি দেশে বসবাসরত আপনার পরিবারের হাতে টাকা পৌঁছাতে পারবেন কোনো জটিলতা ছাড়াই। আসুন জেনে নিন বিদেশ থেকে কোন নিয়মে বিকাশ টাকা পাঠাবেন। 
বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। সে পদ্ধতি গুলোর নিচে তুলে ধরে হলো-

১. অনুমোদিত এবং তালিকাভুক্ত ব্যাংক, মানি ট্রান্সফার অর্গানাইজেশন(এমটিও) এবং মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ গুলোর মাধ্যমেঃ

  • এই পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে বাংলাদেশের বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য, আপনাকে প্রথমে আপনার স্থানীয় অনুমোদিত এবং তালিকাভুক্ত ব্যাংক, মানি ট্রান্সফার অর্গানাইজেশন(এমটিও) বা মানি এক্সচেঞ্জ হাউসে যেতে হবে। 
  • তারপর সেখানে, আপনাকে প্রাপকের বিকাশ নাম্বার এবং পুরো নাম প্রদান করতে হবে। 
  • তারপর, ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউস আপনার পাঠানো টাকাটি প্রাপকের বিকাশ একাউন্টে পাঠিয়ে দিবে। 

২. অনলাইন মানি ট্রান্সফার সার্ভিস ব্যবহার করেঃ 

  • বিভিন্ন অনলাইন মানি ট্রান্সফার সার্ভিস, যেমন- রেমিটলি, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ইত্যাদি ব্যবহার করে আপনি সহজেই বিদেশ থেকে বাংলাদেশে বিকাশে টাকা পাঠাতে পারেন। 
  • এই পরিষেবাগুলো সাধারণত তাদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। 
  • এই পদ্ধতি ব্যবহার করে টাকা পাঠাতে হলে প্রথমে আপনাকে সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। তারপর সেখানে প্রাপকের সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে এবং যত টাকা পাঠানো চাচ্ছেন সে অ্যামাউন্ট পেমেন্ট করতে হবে। 

৩. স্ক্রিল (Skrill) একাউন্ট ব্যবহার করেঃ

  • প্রেইল একাউন্ট থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানো যায়। 
  • বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে আপনি যদি টাকা পাঠাতে চান তাহলে আপনার একাউন্টটি অবশ্যই ব্যবসায়িক হতে হবে। 
  • এখানে কোন ফ্রি নেই কিন্তু গ্লোবাল পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করলে টাকা প্রদানপূর্বক ১.২৫% পর্যন্ত ফ্রি কাটতে পারে।

উপরিউক্ত নিয়ম গুলো ব্যবহার করে বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠাতে হলে আপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই জানতে হবে। যেমন-

  • প্রাপকের বিকাশ একাউন্টটি সক্রিয় এবং বৈধ হতে হবে। 
  • প্রাপকের বিকাশ একাউন্ট নাম্বার এবং পুরো নাম সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। 
  • রেমিটেন্সের পরিমাণ যেন নির্ধারিত সীমা অতিক্রম না করে, তার নিশ্চিত করতে হবে। 
  • বিকাশ একাউন্টে টাকা পাঠানোর পূর্বে, আপনার অবশ্যই সেই দেশের মানি ট্রান্সফার আইনগুলো জেনে নেয়া উচিৎ। 

এ বিষয়ে আপডেট তথ্য পেতে আপনি বিকাশের ওয়েবসাইট বা তাদের কাস্টমার কেয়ারের সাথে যোগাযোগ করে আরো বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন। 

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর খরচ 

বিদেশে কর্মরত সবাই চায় কম খরচে তাদের পরিবারের কাছে যেন টাকাটা পৌঁছে যায়। বিকাশে টাকা পাঠালে কম খরচেই আপনার প্রিয়জনরা পেয়ে যাবে আপনার পাঠানো টাকার। বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর খরচ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

১. মানি ট্রান্সফার সার্ভিসঃ

  • বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার সার্ভিস যেমন- রেমিটলি, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম ইত্যাদির চার্জ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। 
  • অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো সাধারণত কম্পি নিয়ে থাকে, তবে তাদের রেট বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। 

২. লেনদেনের পরিমাণঃ 

  • বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর খরচ লেন দিনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। 
  • কিছু সার্ভিস লেনদেনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে ফি ধার্য করে। 
  • বেশি পরিমাণ টাকা পাঠালে ফি বাড়তে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কমতেও পারে। 

৩. মুদ্রার বিনিময় হারঃ

  • মুদ্রার বিনিময় হারের উঠানামার কারণে খরচ পরিবর্তিত হতে পারে। 
  • বিনিময় হারের সাথে সার্ভিস প্রোভাইডার কিছু ফি যোগ করে থাকে। 

৪. বিকাশের চার্জঃ 

  • বিকাশ একাউন্টে রেমিটেন্স আসলে এটিএম থেকে টাকা উঠানোর সময় আপনার হাজারে ৭ টাকা খরচ হবে। 
  • বিকাশ অ্যাপ অথবা *২৪৭# ডায়াল করে ব্রাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং কিউ-ক্যাশ (Q-Cash) এটিএম বুথ থেকে টাকা উঠানো যাবে। 

বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর খরচের বিষয়ে কিছু সাধারণ তথ্য জেনে নিনঃ

  • কিছু অনলাইন মানি ট্রান্সফার সার্ভিস নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত লেনদেনের জন্য ফ্ল্যাট ফি চার্জ করে। 
  • ব্যাংকের মাধ্যমে যদি আপনি টাকা পাঠান তাহলে  ব্যাংকের নিজস্ব চার্জ এবং বিনিময় হার প্রযোজ্য হবে। 
  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। 

সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, টাকা পাঠানোর আগে বিভিন্ন সার্ভিস প্রোভাইডারের চার্জ এবং বিনিময় হার তুলনা করে নেওয়া। এর জন্য আপনি তাদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। 

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর সুবিধা 

আমাদের দেশের অসংখ্য মানুষ বিদেশে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। সেই অর্থ দেশে তার পরিজনদের হাতে পৌঁছানোর জন্য একটি সহজ মাধ্যম খুঁজে। সেই সহজ মাধ্যম হিসেবে আপনি বেছে নিতে পারেন বিকাশ। কারণ বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে। এর প্রধান কয়েকটি সুবিধা নিচে তুলে ধরা হলোঃ

  • সহজে দ্রুত লেনদেনঃ বিকাশের মাধ্যমে আপনি  খুব সহজ এবং দ্রুত টাকা পাঠাতে পারবেন। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পর প্রাপক প্রায়  তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পেয়ে যান কোন ঝামেলা ছাড়াই। 
  • সব জায়গায় পাওয়া যায়ঃ দেশের প্রায়ই সর্বত্রই বিকাশের এজেন্ট এবং এটিএম বুথ রয়েছে। তাই প্রাপক সহজে যেকোনো স্থান থেকে টাকা তুলতে পারেন। 
  • নিরাপত্তাঃ বিকাশ একটি সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্ম। তাই টাকা পাঠানোর সময় নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করার তেমন কোন কারণ নেই। 
  • সরকারি প্রণোদনাঃ বিকাশের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠালে আপনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রণোদনা পাবেন। 
  • ২৪/৭ সেবাঃ বিকাশ গ্রাহক সেবা ২৪ ঘন্টা পাওয়া যায়।  তাই যে কোন সমস্যা হলে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে পেতে পারেন।
  • এটিএম থেকে কম খরচে উত্তোলনঃ বিকাশ একাউন্টে রেমিটেন্স আসলে, এটিএম থেকে টাকা উঠানোর সময় হাজারে মাত্র ৭ টাকা খরচ হয়। 
  • অনলাইন সুবিধাঃ বিদেশ থেকে অনলাইন মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মাধ্যমে বিকাশ একাউন্টে টাকা পাঠানো যায়। 

বিকাশের এই সুবিধাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য খুবই উপকারী। তারা সহজেই তাদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারেন এবং পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত এবং নিরাপদে টাকা হাতে পান। 

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর অসুবিধা 

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর যেমন অনেক সুবিধা আছে তেমনি কিছু অসুবিধাও আছে। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর আগে সেই অসুবিধাগুলো আপনার জেনে নেয়া দরকার। আসুন তাহলে বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর অসুবিধাগুলো জেনে নিন।

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর অসুবিধাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো-

  • লেনদেনের সীমাঃ বিকাশের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে দৈনিক এবং মাসিক লেনদেনের সীমা রয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি একটি সীমাবদ্ধতা হতে পারে। 
  • মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতাঃ সব দেশে বা সব মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিকাশে টাকা পাঠানোর ব্যাবস্থা ও সুবিধা নাও থাকতে পারে। যার ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে একটি অসুবিধার কারণ হতে পারে। 
  • প্রযুক্তি সমস্যাঃ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মাঝে মাঝে বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা লেনদেনের সমস্যা হতে পারে। যেমন- সার্ভার ডাউন থাকা, বিকাশ অ্যাপের  সমস্যা ইত্যাদির টাকা পাঠাতে অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। 
  • চার্জঃ বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠাতে বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব চার্জ নিয়ে থাকে। এই চার্জ গুলো একেক প্রতিষ্ঠানের জন্য একই রকম হয়ে থাকে তাই এ বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। 
  • বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারঃ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে প্রেরিত অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
  • সঠিক তথ্যের অভাবঃ অনেক সময় প্রবাসীরা বিকাশ একাউন্ট নাম্বার এবং পুরো নাম সঠিকভাবে প্রদান করতে পারেন না বা ভুল করে প্রদান করে। এর ফলে টাকা পাঠাতে সমস্যা হতে পারে। 

উপরিউক্ত সমস্যাগুলো থাকা সত্ত্বেও বিকাশের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো একটি জনপ্রিয় ও সুবিধা জনক উপায়। 

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর লিমিট

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর লিমিট বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। আপনার জানার সুবিধার্থে এই বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

১. দৈনিক এবং মাসিক সীমাঃ

  • বিকাশের মাধ্যমে বিদেশ থেকে প্রতিদিন আপনি সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠাতে পারবেন। 
  • আর প্রতি মাসে আপনি পাঠাতে পারবেন সর্বোমোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

২.সর্বোচ্চ লেনদেন সীমাঃ 

  • সর্বোচ্চ কত টাকা একবারে লেনদেন করতে পারবেন সেটা জেনে নিন।
  • এক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১,২১,৯৫১ টাকা পাঠাতে পারবেন। এই পাঠানো টাকার সাথে ২.৫% সরকারি প্রণোদনা যুক্ত হবে।

৩. মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের নিয়মঃ 

  • বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান (এমটিও) এবং ব্যাংকের নিজস্ব সীমা থাকতে পারে। তাই যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে চাচ্ছেন, তাদের নিয়ম গুলো জেনে নেওয়া ভালো। 

৪. সরকারি প্রণোদনাঃ

  • বৈধ উপায়ে পাঠানো রেমিটেন্সের উপর সরকার ২.৫% প্রণোদনা দিয়ে থাকে। 

অতিরিক্ত তথ্যের জন্য আপনি বিকাশের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন অথবা বিকাশের হেল্পলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। 

বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা রাখা যায়

বিকাশ একাউন্টে টাকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু সীমা রয়েছে। এই সীমা অতিক্রম করে আপনি বিকাশ একাউন্টে টাকা রাখতে পারবেন না। নিচে বিকাশ একাউন্টে সর্বোচ্চ কত টাকা রাখা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. সর্বোচ্চ ব্যালেন্স সীমাঃ একজন বিকাশ গ্রাহক তার বিকাশ একাউন্টে যেকোনো সময় সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত রাখতে পারবেন। 

২. রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে সীমাঃ

  • রেমিটেন্স এর ক্ষেত্রে বিকাশ একাউন্টে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা রাখার শর্তটি প্রযোজ্য নয়। 
  • তবে, বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স ৩ লাখ টাকার নিচে না নামা পর্যন্ত ঐ একাউন্টে রেমিটেন্স এবং সরকারি ভাতা ছাড়া অন্য কোন টাকা গ্রহণ বা আনতে পারবেন না। 

৩. লেনদেনের সীমাঃ ক্যাশ ইন(এজেন্ট থেকে): আপনি দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত এজেন্ট থেকে ক্যাশ ইন করতে পারবেন। 

৪. সেন্ড মানিঃ  আপনি প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি করতে পারবেন।

৫. ক্যাশ আউটঃ এটিএম থেকে ক্যাশ আউট এর ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনের লিমিটটি প্রযোজ্য নয়। আপনি দৈনিক সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠাতে পারবেন। 

বিকাশের এই সীমাগুলো পরিবর্তন হতে পারে। তাই বিকাশ অ্যাপ বা বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া আপনার জন্য ভালো হবে। 

বিকাশে সেন্ড মানি করলে কত টাকা কাটে 

বিকাশে সেন্ড মানি করলে কত টাকা কাটে

বিকাশে সেন্ড মানি করলে কত টাকা কাটে সেটা অনেকেই জানেন না। না জানার কারণে অনেকেই বিকাশে সেন্ড মানি করতে চান না। তাই আজকে বিকাশে সেন্ড মানি করলে কত টাকা কাটে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা নিশ্চয়ই আপনার উপকারে আসবে। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক বিকাশে সেন্ড মানি করলে কত টাকা কাটে।  

প্রিয় নাম্বারে সেন্ড মানিঃ 

  • একজন বিকাশ গ্রাহক একটি ক্যালেন্ডার মাসে হিসেবে পাঁচটি বিকাশ গ্রাহক একাউন্ট নাম্বার (এজেন্ট বা মার্চেন্ট নাম্বার নয়) যুক্ত করতে পারবেন। 
  • বিকাশ অ্যাপ এবং ইউ এস এস ডি (*২৪৭# ডায়াল করে) যেকোনো নাম্বারে ১০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি করতে কোন চার্জ প্রযোজ্য হবে না। 
  • প্রতি মাসে প্রিয় নাম্বারে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি করতে কোন চার্জ লাগে না। 

প্রিয় নাম্বার ছাড়া অন্য যে কোন নাম্বারে সেন্ড মানিঃ

  • প্রতিমাসে প্রিয় নাম্বার ছাড়া অন্য যে কোন নাম্বারে ১০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানির ক্ষেত্রে কোন চার্জ প্রযোজ্য হবে না। 
  • প্রতি মাসে প্রিয় নাম্বার ছাড়া অন্য যে কোন নাম্বারে ১০১ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানির ক্ষেত্রে ৫ টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে। 
  • অন্যদিকে, প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠাতে পাঁচটি প্রিয় নাম্বারে প্রতি লেনদেনে খরচ ১০ টাকা। প্রিয় নাম্বার ছাড়া অন্য যেকোনো নাম্বারেও ১০ টাকা। 
  • বিকাশ অ্যাপ থেকে যেকোন বিকাশ একাউন্টে ৫৫০ টাকা সেন্ড মানি করলে গ্রাহক ১০ টাকা ক্যাশব্যাক পেতে পারেন। 

আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো দেয়ার চেষ্টা করলাম। তারপরেও এই বিষয়ে আরো আপডেট তথ্য পেতে বিকাশের ওয়েবসাইট বা বিকাশের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন। 

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের কিছু পরামর্শ

বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আপনার সুবিধার্থে আমাদের কিছু পরামর্শ জেনে নিন-

  1. বৈধ উপায় অবলম্বন করুনঃ সবসময় অনুমোদিত ব্যাংক, মানি ট্রান্সফার অর্গানাইজেশন (এমটিও) এবং মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে টাকা পাঠান। এতে আপনার টাকা নিরাপদ থাকবে এবং আপনি সরকারি প্রণোদনা পাবেন। 
  2. খরচ তুলনা করুনঃ বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের চার্জ এবং বিনিময় হার তুলনা করে দেখুন। যে প্রতিষ্ঠানে খরচ কম সেটির মাধ্যমে টাকা পাঠান। 
  3. লেনদেনের সীমা জেনে নিনঃ বিকাশের দৈনিক এবং মাসিক লেনদেনের সীমা সম্পর্কে জেনে নিন। এতে আপনার লেনদেন পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে। 
  4. সঠিক তথ্য প্রদান করুনঃ বিকাশ একাউন্ট নাম্বার এবং প্রাপকের নাম সঠিকভাবে প্রদান করুন। ভুল তথ্যের কারণে আপনার লেনদেন ব্যর্থ হতে পারে। 
  5. নিরাপত্তা বজায় রাখুনঃ আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন নাম্বার এবং অন্যান্য গোপন তথ্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
  6. আপডেট রাখুনঃ বিকাশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নিয়মকানুন সম্পর্কে আপডেট থাকুন। এতে আপনি তাদের যেকোনো ধরণের  পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবেন।
  7. গ্রাহক সেবা ব্যবহার করুনঃ কোনো সমস্যা হলে বিকাশের গ্রাহক সেবার সাথে যোগাযোগ করুন। তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। 
  8. রেমিটেন্সের উপর সরকারি প্রণোদনাঃ বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর জন্য সরকার ২.৫% প্রণোদনা দিয়ে থাকে।  রেমিটেন্সের উপর সরকারি প্রণোদনার এই সুবিধাটি গ্রহণ করুন। 

এই পরামর্শগুলো মেনে চললে আপনি নিরাপদে এবং সহজে ও দ্রুত বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠাতে পারবেন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

বিকাশ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। বিকাশে শুধু দেশে নয় বিদেশ থেকেও সহজে ও নিরাপদ ভাবে লেনদেন করা যায়। তাই বিদেশ থেকে আপনার পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য আর আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। কারণ বিকাশের মাধ্যমে আপনার প্রবাসে কষ্টে অর্জিত টাকা আপনার পরিজনদের হাতে পৌঁছাতে পারবেন নিরাপদে এবং কোন ঝামেলা ছাড়াই। এজন্য আপনার জানা জরুরি বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায়। কারণ সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠাতে পারবেন সেটা না জানলে বিকাশে টাকা পাঠাতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন।

আশা করছি উপরের কনটেন্টটি খুব ভালোভাবে পড়েছেন। পড়ে বিদেশ থেকে বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা পাঠানো যায় সে সম্পর্কে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন। এই তথ্যগুলো দ্বারা যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন এবং আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। এরকম প্রয়োজনীয় ও ইউনিক তথ্যগুলো পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। আপনার জন্য রইল শুভকামনা।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ট্রাসটেডএয়ার্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪