কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করুন
ছেলেদের চুলের জন্য কোন তেল সবচেয়ে ভালো আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করে আপনার ত্বককে কিভাবে ফর্সা, উজ্জ্বল ও সুন্দর করে তুলবেন সে সম্পর্কে। এটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হবে। তাই আপনার রূপচর্চার প্রধান উপকরণ হিসেবে কাঁচা হলুদ বেছে নিতে পারেন।
কাঁচা হলুদে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা, ত্বককে দাগ হীন, সুন্দর ও মসৃণ করে তোলে। এটি দিয়ে নিয়মিত ত্বকের যত্ন করলে প্রাকৃতিকভাবে আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় হয়ে উঠবে। আসুন তাহলে জেনে নিন কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করার পদ্ধতি গুলো।
পোস্ট সূচীপত্রঃ ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে নিয়মিত কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করুন।
- কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন।
- কাঁচা হলুদ কি ?
- কাঁচা হলুদ দিয়ে যেভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন।
- কাঁচা হলুদে ত্বকের জন্য উপকারী যেসব উপাদান আছে।
- শুধু কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম।
- কাঁচা হলুদ মাখলে কি ত্বক ফর্সা হয়?
- কাঁচা হলুদ দিয়ে ফেসপ্যাক।
- কাঁচা হলুদ খাওয়া কি ত্বকের জন্য ভালো ?
- নিম পতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম।
- কাঁচা হলুদ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
- লেখকের শেষ বক্তব্য।
কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা করে আসছেন সৌন্দর্য সচেতন রমণীরা। কাঁটা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করলে আপনার ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল ও দাগমুক্ত হয়ে উঠবে প্রাকৃতিকভাবে। আমরা আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে কত কিছুই না ব্যবহার করে থাকি। বাজারের কেমিক্যালযুক্ত সব প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বকের উপকারের পরিবর্তে বরং আরো ক্ষতি করে ফেলে। বাজারের এসব নামী দামী প্রসাধনী ব্যবহার না করে কোন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে যদি আপনি আপনার ত্বকের যত্ন করেন তাহলে সেটা নিশ্চয়ই আপনার ত্বকের জন্য অনেক ফলোপ্রসূ হবে কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
আরো পড়ুনঃ ছেলেদের চুলের জন্য কোন শ্যাম্পু সবচেয়ে ভালো।
তাই আপনার রূপচর্চার উপকরণ হিসেবে আপনি প্রকৃতি থেকে পাওয়া একদম খাঁটি উপাদানগুলো বেছে নিতে পারেন। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অনেক প্রাকৃতিক উপকরণ আছে। আর এসব প্রাকৃতিক উপকরণের মধ্যে কাঁচা হলুদ অন্যতম। কাঁচা হলুদ দিয়ে নিয়মিত ত্বকের যত্ন করলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে দাগহীন, ফর্সা ও লাবণ্যময়। কাঁচা হলুদে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা, আপনার ত্বককে একদম গভীর থেকে উজ্জ্বল, কোমল ও মসৃণ করে তোলে। কাঁচা হলুদ থেকে আরও উপকার পেতে এর সাথে আপনি আরো কিছু অত্যন্ত উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান(যেমন-মধু, কাঁচা দুধ, নিমপাতা, চন্দন গুড়া, অ্যালোভেরা জেল, টক দই ইত্যাদি ) মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন, কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করে আপনি তখনই উপকৃত হবেন, যদি এটি আপনার ত্বক সহ্য করতে পারে। কাঁচা হলুদ ব্যবহারে আপনার যদি এলার্জি হয়ে থাকে বা আপনি যদি সেনসিটিভ স্ক্রিনের অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
কাঁচা হলুদ কি ?
কাঁচা হলুদ হলো হলুদ গাছের মূল থেকে পাওয়া একধরনের মসলা। এটি হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। কাঁচা হলুদকে মসলা হিসেবে খাওয়া হলেও, এর রয়েছে প্রচুর ঔষধিগুণ। শুকনা হলুদের চাইতে কাঁচা হলুদের উপকারিতা বেশি। যুগ যুগ ধরে সৌন্দর্য সচেতন নারীরা তাদের রূপচর্চায় কাঁচা হলুদকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহার করে আসছে। কাঁচা হলুদ আপনার ত্বকের দাগ ছোপ দূর করে, ত্বককে ফর্সা, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তোলে। শুধু ত্বকে লাগালে ত্বক সুন্দর হবে এমন নয়, এটি নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলেও আপনার ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। তাই সৌন্দর্য চর্চায় কাঁচা হলুদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
কাঁচা হলুদ যে শুধু আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবে তা কিন্তু নয়। নিয়মিত পরিমাণমতো এটি খেলে আপনার শরীরের জন্য অনেক উপকারিতা বয়ে আনবে। কাঁচা হলুদের থাকা শক্তিশালী উপাদান সমূহ আপনার শরীরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলবে। কাঁচা হলুদে কার্কিউমিন নামক একটি যৌগ বেশি পরিমাণে থাকে। কার্কিউমিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই কাঁচা হলুদ শুধু ত্বকের যত্ন নিতে ব্যবহৃত হয় তা নয় এটি আপনার শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী একটি উপাদান।
তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, কাঁচা ত্বকে লাগালে বা খেলে যদি আপনার অ্যালার্জি বা কোনো ধরণের সমস্যা হয় তবে এটিকে নিজের থেকে দূরে রাখুন।
কাঁচা হলুদ দিয়ে যেভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন
- ব্যবহারবিধিঃ এক টুকরো কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে ধুয়ে মিহি করে বেটে নিন। কাঁচা হলুদ বাটার সাথে সামান্য চন্দন গুঁড়া ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি ঘন মিশন তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।
- ব্যবহারবিধিঃ কিছু কাঁচা নিমপাতা ও এক টুকরো কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। কাঁচা নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ আলাদা আলাদা ভাবে বেটে নিন। তারপর দুইটি উপকরণই একসাথে মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আপনি চাইলে এই পেস্টটির সাথে সামান্য হলুদ যোগ করতে পারেন। এই মিশ্রণটি পুরো মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এবার ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করে, পরিষ্কার পানি দিয়ে দিয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকের ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে সহায়তা করবে।
- ব্যবহার বিধিঃ এক টুকরো কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে ধুয়ে বেটে নিন। এ কাঁচা হলুদ বাটার সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এটি পুরো মুখে লাগিয়ে রেখে দিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার ত্বক হবে দাগ মুক্ত নরম ও মসৃণ। যার ফলে আপনার ত্বক সহজে বুড়িয়ে যাবে না।
- ব্যবহার বিধিঃ এক টুকরো কাঁচা হলুদ নিন। এটি পরিষ্কার করে ধুয়ে মিহি করে বেটে নিন। এ কাঁচা হলুদ বাটার সাথে সমপরিমাণ এলোভেরা জেল মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মিশ্রণটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বকের রোদে পোড়া দাগ কমার পাশাপাশি এটি আপনার ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
- ব্যবহার বিধিঃ পরিষ্কার এক টুকরো কাঁচা হলুদ বেটে নিন। বাটা হলুদে সামান্য মধু মিশিয়ে নিন এবং একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগান যাতে মুখের সব জায়গায় ঠিকমতো পৌঁছে যায়। এভাবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট থাকার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
কাঁচা হলুদে ত্বকের জন্য উপকারী যেসব উপাদান আছে
- কারকিউমিনঃ কাঁচা হলুদের অন্যতম প্রধান সক্রিয় উপাদান হচ্ছে কারকিউমিন। এই কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের দাগ-ছোপ কমিয়ে ও বয়সের ছাপ দূর করে ত্বককে ফর্সা ও সুন্দর করে তোলে।
- ভিটামিন সিঃ ভিটামিন সি হচ্ছে একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতির হাত রক্ষা করে এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এর ফলে আপনার ত্বক আরো টানটান ও তরূণ থাকে।
- ভিটিমিন ইঃ কাঁচা হলুদে আছে ভিটামিন ই। এটিও একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে।
- পটাশিয়ামঃ কাঁচা হলুদে রয়েছে পটাশিয়াম। আর পটাশিয়াম আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
- অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানঃ কাঁচা হলুদে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান, যা আপনার ত্বকের সংক্রমণ ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
শুধু কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম
- প্রথমে আপনার ত্বক ভালোভাবে কোন ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন৷ যাতে কোন ময়লা বা ডেড সেল আপনার মুখের ত্বকে না থাকে।
- এবার, কিছু কাঁচা হলুদ নিন। সেটা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। এই পরিষ্কারকৃত হলুদ বেটে নিন, যাতে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি হয়।
- এখন, এই হলুদের পেস্ট আপনার পুরো মুখে লাগান। এমনভাবে লাগান যাতে মুখের সব জায়গায় সমানভাবে লেগে থাকে।
- এবার, এভাবে মুখে হলুদ লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০মিনিট মতো। এই সময়টুকু হলুদকে আপনার মুখের ত্বকে কাজ করতে দিন।
- এখন পুরো মুখ নরমাল ও পরিষ্কার পানি দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এবার একটা পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
কাঁচা হলুদ মাখলে কি ত্বক ফর্সা হয়?
কাঁচা হলুদ দিয়ে ফেসপ্যাক
- ২টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।
- ১টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া।
- পরিমাণ মতো গোলাপ জল।
- হলুদ বাটা ও চন্দন গুঁড়া একটি পরিষ্কার পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
- তারপর সেই মিশ্রণের সাথে গোলাপ জল দিয়ে মসৃণ ও ঘন একটি পেস্ট তৈরি করুন।
- একটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে 15 থেকে 20 মিনিট পর পরিষ্কার স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- এক টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।
- এক টেবিল চামচ মধু।
- হলুদ বাটা ও মধু একটি পরিষ্কার পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
- তারপর পুরো মুখে এই মিশ্রণটি ভালোভাবে লাগিয়ে নিন।
- এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন, হালকা করে কিছু সময় মেসেজ করে তারপর পরিষ্কার স্বাভাবিক মাত্রার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
- ২টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।
- ১ টেবিল চামচ বেসন।
- পরিশাণ মতো কাঁচা দুধ।
- কাঁচা হলুদ বাটা ও বেসন একটি পরিষ্কার বাটিতে ভারোভাবে মিশিয়ে নিন।
- এবার কাঁচা দুধ দিয়ে মিশ্রণটি দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। দারুন একটি ফেসপ্যাক তৈরি হয়ে গেলো।
- এখন এই প্যাকটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর পরিষ্কার সাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- ১ টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।
- ১টেবিল চামচ ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল।
- কাঁচা হলুদ বাটা ও অ্যারোভেরা জেল একটি বাটিতে চামচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেলো আপনার কাঙ্ক্ষিত ফেসপ্যাক।
- এবার এই ফেসপ্যাকটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগান।
- এভাবে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর সাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত ২দিন লাগান।
কাঁচা হলুদ খাওয়া কি ত্বকের জন্য ভালো
- ত্বককে ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তোলেঃ কাঁচা হলুদ খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বককে প্রানবন্ত ও ভিতর থেকে আরোও পরিষ্কার করে তোলে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধঃ কাঁচা হলুদে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। আপনি যদি নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করবে।
- প্রদাহ কমায়ঃ কাঁচা হলুদে কারকিউমিন নামক একটি উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সহয়তা করে। এটি আপনার ত্বকের ব্রন ও অন্যান্য ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।
- ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করেঃ কাঁচা হলুদ ত্বকের ক্ষত নিরাময় করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এটি ত্বকের ছোটখাটো কাটা ছেঁড়া এবং পোড়া জায়গায় লাগালে দ্রুত সেরে যায়।
- রক্ত পরিশোধন করেঃ কাঁচা হলুদ নিয়মিত পরিমাণমতো খেলে আপনার রক্ত পরিষ্কার থাকবে। আর রক্ত পরিষ্কার থাকলে আপনার ত্বক ভিতর থেকে দাগমুক্ত ও পরিষ্কার দেখাবে।
নিম পতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম
- কিছু তাজা নিম পাতা।
- ১ ইঞ্চি মতো কাঁচা হলুদ।
- সামান্য জল।
- প্রথমে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
- এবার, মিহি পেস্ট করার সুবিধার্থে কাঁচা হলুদ ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।
- সামান্য পানি দিয়ে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ গুলো বেটে নিন বা ব্লেন্ড করে নিন, ঘন একটি মিশ্রণ তৈরি হয়।
- মিশ্রণ পুরো মুখে ও ঘাড়ে সমানভাবে লাগান, যাতে মুখে ও ঘাড়ের সব জায়গায় মিশ্রণ ভালোভাবে লেগে যায়।
- এবার আপনি ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। মিশ্রণ শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ও ঘাড় ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন।
- সবশেষে, মুখে ও ঘাড়ে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগান।
কাঁচা হলুদ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি
- ত্বকের ধরণঃ কাঁচা হলুদ ব্যবহার করার আগে আপনার ত্বকের ধরণ জানা জরুরি। কিছু ত্বকে হলুদ ব্যবহার করলে জালা-পোড়া বা চুলকানি হতে পারে। তাই প্রথমে প্যাচ টেস্ট করুন অর্থাৎ হাতের তালুর উল্টো দিকে সামান্য কাঁচা হলুদ লাগিয়ে দেখুন কোনো এ্যালার্জি বা জালা পোড়া অনুভুত হচ্ছে কিনা। যদি কোনো সমস্যা না হয় তাহলে এটি আপনার ত্বকে ব্যবহার করতে পারবেন।
- পরিমাণঃ হলুদ বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে ত্বকে দাগ দেখা দিতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে হলুদ আপনার ত্বকে লাগাবেন। আর সপ্তাহে ২-৩ বার লাগানোই ভালো ।
- পরিমিত সময়ঃ আপনার ত্বকে হলুদ লাগানোর পর সেটা বেশি সময় ধরে রেখে দিবেন না। জাস্ট ১৫-২০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- সূর্যের আলো এড়িয়ে চলুনঃ হলুদ লাগানোর পর সরাসরি সূর্যের আলোতে যাওয়া একদমই উচিত না। এতে ত্বক আলো কালচে হয়ে যেতে পারে। এমনকি হলুদ লাগিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পরও কিছুক্ষণ ছায়াতে থাকুন এবং সান স্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- অন্যান্য উপাদান ব্যবহারে সতর্কতাঃ ভালো ফলাফল পেতে হলুদের সাথে আপনি অন্যান্য উপাদান যেমন- মধু, কাঁচা দুধ, বেসন ইত্যাদি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে হলুদের সাথে মিশানো কোন উপাদানে যাতে আপনার এ্যালার্জি না থাকে।
- গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানঃ গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে হলুদ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ট্রাসটেডএয়ার্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url