OrdinaryITPostAd

কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করুন

ছেলেদের চুলের জন্য কোন তেল সবচেয়ে ভালো আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করে আপনার ত্বককে কিভাবে ফর্সা, উজ্জ্বল ও সুন্দর করে তুলবেন সে সম্পর্কে। এটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হবে। তাই আপনার রূপচর্চার প্রধান উপকরণ হিসেবে কাঁচা হলুদ বেছে নিতে পারেন।

কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করুন

কাঁচা হলুদে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা, ত্বককে দাগ হীন, সুন্দর ও মসৃণ করে তোলে। এটি দিয়ে নিয়মিত ত্বকের যত্ন করলে প্রাকৃতিকভাবে আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় হয়ে উঠবে। আসুন তাহলে জেনে নিন কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করার পদ্ধতি গুলো।

পোস্ট সূচীপত্রঃ ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে নিয়মিত কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করুন।

কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন

কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কাঁচা হলুদ দিয়ে রূপচর্চা করে আসছেন সৌন্দর্য সচেতন রমণীরা। কাঁটা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করলে আপনার ত্বক অনেক বেশি উজ্জ্বল ও দাগমুক্ত হয়ে উঠবে প্রাকৃতিকভাবে। আমরা আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে কত কিছুই না ব্যবহার করে থাকি। বাজারের কেমিক্যালযুক্ত সব প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বকের উপকারের পরিবর্তে বরং আরো ক্ষতি করে ফেলে। বাজারের এসব নামী দামী প্রসাধনী ব্যবহার না করে কোন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে যদি আপনি আপনার ত্বকের যত্ন করেন তাহলে সেটা নিশ্চয়ই আপনার ত্বকের জন্য অনেক ফলোপ্রসূ হবে কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।

আরো পড়ুনঃ ছেলেদের চুলের জন্য কোন শ্যাম্পু সবচেয়ে ভালো।

তাই আপনার রূপচর্চার উপকরণ হিসেবে আপনি প্রকৃতি থেকে পাওয়া একদম খাঁটি উপাদানগুলো বেছে নিতে পারেন। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অনেক প্রাকৃতিক উপকরণ আছে। আর এসব প্রাকৃতিক উপকরণের মধ্যে কাঁচা হলুদ অন্যতম। কাঁচা হলুদ দিয়ে নিয়মিত ত্বকের যত্ন করলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে দাগহীন, ফর্সা ও লাবণ্যময়। কাঁচা হলুদে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা, আপনার ত্বককে একদম গভীর থেকে উজ্জ্বল, কোমল ও মসৃণ করে তোলে। কাঁচা হলুদ থেকে আরও উপকার পেতে এর সাথে আপনি আরো কিছু অত্যন্ত উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান(যেমন-মধু, কাঁচা দুধ, নিমপাতা, চন্দন গুড়া, অ্যালোভেরা জেল, টক দই ইত্যাদি ) মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন।

তবে মনে রাখবেন, কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করে আপনি তখনই উপকৃত হবেন, যদি এটি আপনার ত্বক সহ্য করতে পারে। কাঁচা হলুদ ব্যবহারে আপনার যদি এলার্জি হয়ে থাকে বা আপনি যদি সেনসিটিভ স্ক্রিনের অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

কাঁচা হলুদ কি ?

কাঁচা হলুদ হলো হলুদ গাছের মূল থেকে পাওয়া একধরনের মসলা। এটি হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। কাঁচা হলুদকে মসলা হিসেবে খাওয়া হলেও, এর রয়েছে প্রচুর ঔষধিগুণ। শুকনা হলুদের চাইতে কাঁচা হলুদের উপকারিতা বেশি। যুগ যুগ ধরে সৌন্দর্য সচেতন নারীরা তাদের রূপচর্চায় কাঁচা হলুদকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহার করে আসছে। কাঁচা হলুদ আপনার ত্বকের দাগ ছোপ দূর করে, ত্বককে ফর্সা, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তোলে। শুধু ত্বকে লাগালে ত্বক সুন্দর হবে এমন নয়, এটি নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলেও আপনার ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। তাই সৌন্দর্য চর্চায় কাঁচা হলুদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। 

কাঁচা হলুদ যে শুধু আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবে তা কিন্তু নয়। নিয়মিত পরিমাণমতো এটি খেলে আপনার শরীরের জন্য অনেক উপকারিতা বয়ে আনবে। কাঁচা হলুদের থাকা শক্তিশালী উপাদান সমূহ আপনার শরীরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলবে। কাঁচা হলুদে কার্কিউমিন নামক একটি যৌগ বেশি পরিমাণে থাকে। কার্কিউমিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই কাঁচা হলুদ শুধু ত্বকের যত্ন নিতে ব্যবহৃত হয় তা নয় এটি আপনার শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী একটি উপাদান। 

তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, কাঁচা ত্বকে লাগালে বা খেলে যদি আপনার অ্যালার্জি বা কোনো ধরণের সমস্যা হয় তবে এটিকে নিজের থেকে দূরে রাখুন।

কাঁচা হলুদ দিয়ে যেভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন

কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করলে দিন দিন আপনার ত্বকের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে বহু গুনে। কাঁচা হলুদ আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে আপনার ত্বককে দাগ মুক্ত, ময়শ্চারাইজড, টানটান ও মসৃণ করে তোলে। কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করলে তো কি কি উপকারিতা পাবে আসুন তাহলে জেনে নিন-

১. উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করেঃ কাঁচা হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বক ধীরে ধীরে প্রাকৃতিকভাবেই উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় হয়ে ওঠে।
  • ব্যবহারবিধিঃ এক টুকরো কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে ধুয়ে মিহি করে বেটে নিন। কাঁচা হলুদ বাটার সাথে সামান্য চন্দন গুঁড়া ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি ঘন মিশন তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। 
২. ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতেঃ ব্রণ ও ব্রনের দাগের সমস্যায় আমরা কম বেশি সবাই ভুগে থাকি। কাঁচা হলুদ ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক। 
  • ব্যবহারবিধিঃ কিছু কাঁচা নিমপাতা ও এক টুকরো কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। কাঁচা নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ আলাদা আলাদা ভাবে বেটে নিন। তারপর দুইটি উপকরণই একসাথে মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আপনি চাইলে এই পেস্টটির সাথে সামান্য হলুদ যোগ করতে পারেন। এই মিশ্রণটি পুরো মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এবার ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করে, পরিষ্কার পানি দিয়ে দিয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকের ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে সহায়তা করবে।
৩. বয়সের ছাপ কমাতেঃ কাঁচা হলুদ আপনার ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
  • ব্যবহার বিধিঃ এক টুকরো কাঁচা হলুদ পরিষ্কার করে ধুয়ে বেটে নিন। এ কাঁচা হলুদ বাটার সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এটি পুরো মুখে লাগিয়ে রেখে দিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার ত্বক হবে দাগ মুক্ত নরম ও মসৃণ। যার ফলে আপনার ত্বক সহজে বুড়িয়ে যাবে না।
৪.রোদে পোড়া দাগ দূর করেঃ অনেক সময় রোদের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে আমাদের ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যায়। কাঁচা হলুদ আপনার ত্বকের এই রোদে পোড়া দাগ কমাতে বেশ কার্যকর।
  • ব্যবহার বিধিঃ এক টুকরো কাঁচা হলুদ নিন। এটি পরিষ্কার করে ধুয়ে মিহি করে বেটে নিন। এ কাঁচা হলুদ বাটার সাথে সমপরিমাণ এলোভেরা জেল মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মিশ্রণটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বকের রোদে পোড়া দাগ কমার পাশাপাশি এটি আপনার ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।  
৫.ত্বক ময়েশ্চারাইজ করেঃ ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে মসৃণ ও কোমল করে তোলে কাঁচা হলুদ। 
  • ব্যবহার বিধিঃ পরিষ্কার এক টুকরো কাঁচা হলুদ বেটে নিন। বাটা হলুদে সামান্য মধু মিশিয়ে নিন এবং একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন।  এই পেস্টটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগান যাতে মুখের সব জায়গায় ঠিকমতো পৌঁছে যায়। এভাবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট থাকার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
আরো বিভিন্ন উপায়ে আপনি কাঁচা হলুদ আপনার ত্বকে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অবশ্য মনে রাখতে হবে কাঁচা হলুদ ব্যবহারে যদি আপনার ত্বকে কোন ধরনের জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয় তাহলে এটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কাঁচা হলুদে ত্বকের জন্য উপকারী যেসব উপাদান আছে

কাঁচা হলুদ আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে এমন কিছু কার্যকরী উপাদান রয়েছে যা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে, ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে, ত্বককে সুন্দর ও মসৃণ করে তোলে। চলুন তাহলে আমাদের ত্বকের জন্য এতো উপকারি কাঁচা হলুদে যেসব উপাদান আছে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
  • কারকিউমিনঃ কাঁচা হলুদের অন্যতম প্রধান সক্রিয় উপাদান হচ্ছে কারকিউমিন। এই কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের দাগ-ছোপ কমিয়ে ও বয়সের ছাপ দূর করে ত্বককে ফর্সা ও সুন্দর করে তোলে।
  • ভিটামিন সিঃ ভিটামিন সি হচ্ছে একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতির হাত রক্ষা করে এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এর ফলে আপনার ত্বক আরো টানটান ও তরূণ থাকে।
  • ভিটিমিন ইঃ কাঁচা হলুদে আছে ভিটামিন ই। এটিও একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে।
  • পটাশিয়ামঃ কাঁচা হলুদে রয়েছে পটাশিয়াম। আর পটাশিয়াম আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। 
  • অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানঃ কাঁচা হলুদে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান, যা আপনার ত্বকের সংক্রমণ ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। 
এছাড়াও, কাঁচা হলুদে আরও অনেক ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য উপকারি উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে সুস্থ, সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। কাজেই কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করলে আপনার ত্বকের সৌন্দর্য কতটা বৃদ্ধি পাবে সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।

শুধু কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

শুধু কাঁচা হলুদ বিভিন্ন উপায়ে আপনি মুখে লাগাতে পারেন। শুধু কাঁচা হলুদ মুখে লাগালে অনেক ভালো ফল পাবেন। তার মধ্যে কাঁচা হলুদের কিছু কার্যকর ও জনপ্রিয় পদ্ধতি আপনাদের সাথে আজকে আমরা আলোচনা করবো। আসুন তাহলে শুধু কাঁচা হলুদ মুখে লাগানোর নিয়ম জেনে নিন।
  • প্রথমে আপনার ত্বক ভালোভাবে কোন ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন৷ যাতে কোন ময়লা বা ডেড সেল আপনার মুখের ত্বকে না থাকে। 
  • এবার, কিছু কাঁচা হলুদ নিন। সেটা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করুন। এই পরিষ্কারকৃত হলুদ বেটে নিন, যাতে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি হয়।
  • এখন, এই হলুদের পেস্ট আপনার পুরো মুখে লাগান। এমনভাবে লাগান যাতে মুখের সব জায়গায় সমানভাবে লেগে থাকে। 
  • এবার, এভাবে মুখে হলুদ লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০মিনিট মতো। এই সময়টুকু হলুদকে আপনার মুখের ত্বকে কাজ করতে দিন। 
  • এখন পুরো মুখ নরমাল ও পরিষ্কার পানি দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এবার একটা পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
মনে রাখবেন, কাঁচা হলুদ ব্যবহারের পূর্বে প্যাচ টেস্ট (হাতের তলা উপুর করে হাতের ত্বকের উপর অল্প হলুদ নিয়ে ঘষে দেখেন) করুন। কাঁচা হলুদ আপনার মুখের ত্বকে জ্বালা পোড়া বা কোন এ্যালার্জিক সমস্যা সৃষ্টি করলে, এটি মুখে লাগানো থেকে দূরে থাকুন। কাঁচা মুখে লাগনোর পর কোনো সমস্যার সৃষ্টি করলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কাঁচা হলুদ মাখলে কি ত্বক ফর্সা হয়?

কাঁচা হলুদ ত্বকের জন্য বেশ দরকারি একটি উপাদান। এটি ত্বককে  উজ্জ্বল করতে, দাগ কমাতে এবং ত্বকের ব্রণ ফুসকুড়ি সহ অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। তবে, সরাসরি কাঁচা হলুদ ত্বকে মাখলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনার জানা অতীব জরুরি।
 

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে, কাঁচা হলুদ মাখলে ত্বক ফর্সা হয় কিনা। প্রকৃতপক্ষে, কাঁচা হলুদ ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি ত্বককে স্থায়ীভাবে ফর্সা করতে পারেনা। হলুদে থাকা কার্কিউমিন নামক একটি উপাদান থাকে,  যা ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং দাগ ছোপ কমে যায়। তবে এটি ত্বকের প্রাকৃতিক রং এর পরিবর্তন করতে পারে না। 

কাঁচা হলুদ দিয়ে ফেসপ্যাক

ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে কাঁচা হলুদ বিশেষভাবে কাজ করে। তবে এর কার্যকারিতা আরো বৃদ্ধি করতে আপনি কাঁচা হলুদের সাথে আরো কিছু পুষ্টিগুণ সম্পন্ন উপকরণ মিশিয়ে বিভিন্ন ফেসপ্যাক তৈরি করে সেটা ব্যাবহার করতে পারেন। কিছু ভালো ফেসপ্যাকের উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালী নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

1. হলুদ ও চন্দন প্যাকঃ এই প্যাকটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারি। এটি ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
  • ২টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।
  • ১টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া। 
  • পরিমাণ মতো গোলাপ জল।
প্রস্তত প্রণালী ও ব্যবহারবিধিঃ
  • হলুদ বাটা ও চন্দন গুঁড়া একটি পরিষ্কার পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • তারপর সেই মিশ্রণের সাথে গোলাপ জল দিয়ে মসৃণ ও ঘন একটি পেস্ট তৈরি করুন।
  • একটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে 15 থেকে 20 মিনিট পর পরিষ্কার স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
2. হলুদ ও মধু প্যাকঃ হলুদ ও মধুর প্যাকটি শুষ্ক ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। এই প্যাকটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে তোকে ময়েশ্চারাইজ রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। সেই সাথে আপনার ত্বকের নরম করে তুলে এই হলুদ ও মধু দিয়ে তৈরি প্যাকটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
  • এক টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা। 
  • এক টেবিল চামচ মধু। 
প্রস্তুত প্রণালী ও ব্যবহার বিধিঃ
  • হলুদ বাটা ও মধু একটি পরিষ্কার পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • তারপর পুরো মুখে এই মিশ্রণটি ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। 
  • এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন, হালকা করে কিছু সময় মেসেজ করে তারপর পরিষ্কার স্বাভাবিক মাত্রার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 
3.হলুদ এবং বেসন ফেসপ্যাকঃ হলুদ বেসন দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাকটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের দাগ ছোপ দূর বেশ ভালো কাজ করে।
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
  • ২টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।
  • ১ টেবিল চামচ বেসন। 
  • পরিশাণ মতো কাঁচা দুধ।
প্রস্তুত প্রণালীঃ
  • কাঁচা হলুদ বাটা ও বেসন একটি পরিষ্কার বাটিতে ভারোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এবার কাঁচা দুধ দিয়ে মিশ্রণটি দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। দারুন একটি ফেসপ্যাক তৈরি হয়ে গেলো।
  • এখন এই প্যাকটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর পরিষ্কার সাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
4. কাঁচা হলুদ ও অ্যালোভেরা ফেসপ্যাকঃ এই ফেসপ্যাকটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বকের জালা পোড়া দূর করে ও ত্বক ঠান্ডা রাখে।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
  • ১ টেবিল চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।
  • ১টেবিল চামচ ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল।
প্রস্তুত প্রণালীঃ
  • কাঁচা হলুদ বাটা ও অ্যারোভেরা জেল একটি বাটিতে চামচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেলো আপনার কাঙ্ক্ষিত ফেসপ্যাক।
  • এবার এই ফেসপ্যাকটি পুরো মুখে সমানভাবে লাগান। 
  • এভাবে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর সাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত ২দিন লাগান।
আপনার ত্বকের ধরণ অনুযায়ী উপরের ফেসপ্যাকগুলোর মধ্যে সঠিক ফেসপ্যাকটি বেছে নিতে পারেন এবং ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন । কাঁচা হলুদ ব্যবহারের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার ত্বকে কোন এ্যালার্জি আছে কিনা। এ্যালার্জি থাকলে এসব ফেসপ্যাক ব্যবহারে বিরত থাকুন।

কাঁচা হলুদ খাওয়া কি ত্বকের জন্য ভালো

হ্যাঁ কাঁচা হলুদ খাওয়া ত্বকের জন্য অনেক ভালো। কাঁচা হলুদে থাকা উপাদানসমূহ ত্বকের বিভিন্ন রকম সমস্যা দূর করে। এটি খাওয়া ত্বকের জন্য কেন ভালো চলুন তাহলে জেনে নিন-
  • ত্বককে ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তোলেঃ কাঁচা হলুদ খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে ত্বককে প্রানবন্ত ও ভিতর থেকে আরোও পরিষ্কার করে তোলে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধঃ কাঁচা হলুদে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। আপনি যদি নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করবে।
  • প্রদাহ কমায়ঃ কাঁচা হলুদে কারকিউমিন নামক একটি উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সহয়তা করে। এটি আপনার ত্বকের ব্রন ও অন্যান্য ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। 
  • ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করেঃ কাঁচা হলুদ ত্বকের ক্ষত নিরাময় করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এটি ত্বকের ছোটখাটো কাটা ছেঁড়া এবং পোড়া জায়গায় লাগালে দ্রুত সেরে যায়।
  • রক্ত পরিশোধন করেঃ কাঁচা হলুদ নিয়মিত পরিমাণমতো খেলে আপনার রক্ত পরিষ্কার থাকবে। আর রক্ত পরিষ্কার থাকলে আপনার ত্বক ভিতর থেকে দাগমুক্ত ও পরিষ্কার দেখাবে।
তবে, কাঁচা হলুদ খেতে হলে আপনাকে অবশ্যই তা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

নিম পতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম

নিম পতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়ম
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগালে আপনার ত্বকের জন্য অনেক উপকারি হবে। এটি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্রন,ফুসকুড়ি ও যেকোন ইনফেকশন দূর করবে। তবে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার কিছু নিয়ম আছে। আসুন তাহলে জেনে নিন নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখে দেওয়ার নিয়মটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণঃ 
  • কিছু তাজা নিম পাতা। 
  • ১ ইঞ্চি মতো কাঁচা হলুদ। 
  • সামান্য জল।
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ মুখের ত্বকে দিবেন যেভাবেঃ
  1. প্রথমে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
  2. এবার, মিহি পেস্ট করার সুবিধার্থে কাঁচা হলুদ ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।
  3. সামান্য পানি দিয়ে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ গুলো বেটে নিন বা ব্লেন্ড করে নিন, ঘন একটি মিশ্রণ তৈরি হয়। 
  4. মিশ্রণ পুরো মুখে ও ঘাড়ে সমানভাবে লাগান, যাতে মুখে ও ঘাড়ের সব জায়গায় মিশ্রণ ভালোভাবে লেগে যায়।
  5. এবার আপনি ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। মিশ্রণ শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ও ঘাড় ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন। 
  6. সবশেষে, মুখে ও ঘাড়ে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগান।
মিশ্রণটি লাগানোর পর যদি মুখে জ্বালা-পোড়া বা যেকোন ধরণের অসস্তিকর বিষয় অনুভব করেন তাহলে সাথে সাথে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং এটা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। আর সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কাঁচা হলুদ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি 

কাঁচা হলুদ আমাদের ত্বকের জন্য যথেষ্ট উপকারী। তবে কাঁচা হলুদ ব্যবহারে যাতে আপনাকে কোন ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয় তাই এটি ব্যবহারের পূর্বে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কাঁচা হলুদ ব্যবহারের আগে যেসব সতর্কতা আপনার মেনে চলা দরকার সেগুলো হলোঃ
আরো পড়ুনঃ
  • ত্বকের ধরণঃ কাঁচা হলুদ ব্যবহার করার আগে আপনার ত্বকের ধরণ জানা জরুরি। কিছু ত্বকে হলুদ ব্যবহার করলে জালা-পোড়া বা চুলকানি হতে পারে। তাই প্রথমে প্যাচ টেস্ট করুন অর্থাৎ হাতের তালুর উল্টো দিকে সামান্য কাঁচা হলুদ লাগিয়ে দেখুন কোনো এ্যালার্জি বা জালা পোড়া অনুভুত হচ্ছে কিনা। যদি কোনো সমস্যা না হয় তাহলে এটি আপনার ত্বকে ব্যবহার করতে পারবেন।
  •  পরিমাণঃ হলুদ বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে ত্বকে দাগ দেখা দিতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে হলুদ আপনার ত্বকে লাগাবেন। আর সপ্তাহে ২-৩ বার লাগানোই ভালো ।
  • পরিমিত সময়ঃ আপনার ত্বকে হলুদ লাগানোর পর সেটা বেশি সময় ধরে রেখে দিবেন না। জাস্ট ১৫-২০ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • সূর্যের আলো এড়িয়ে চলুনঃ হলুদ লাগানোর পর সরাসরি সূর্যের আলোতে যাওয়া একদমই উচিত না। এতে ত্বক আলো কালচে হয়ে যেতে পারে। এমনকি হলুদ লাগিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পরও কিছুক্ষণ ছায়াতে থাকুন এবং সান স্ক্রিন ব্যবহার করুন।
  • অন্যান্য উপাদান ব্যবহারে সতর্কতাঃ ভালো ফলাফল পেতে হলুদের সাথে আপনি অন্যান্য উপাদান যেমন- মধু, কাঁচা দুধ, বেসন ইত্যাদি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে হলুদের সাথে মিশানো কোন উপাদানে যাতে আপনার এ্যালার্জি না থাকে।
  • গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানঃ গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে হলুদ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
হলুদ আমাদের ত্বকের জন্য খুবই লাভজনক একটি উপাদান। তবে, এটি ব্যবহার করার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। উপরে দেওয়া সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনি হলুদের উপকারীতা ভোগ করতে পারবেন।

লেখকের শেষ বক্তব্য

রূপচর্চায় কাঁচা হলুদ প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ফর্সা, উজ্জ্বল, মসৃণ ও লাবণ্যময় ত্বক পেতে নিয়মিত আপনার ত্বকে কাঁচা হলুদ ব্যবহার করুন। কাঁচা হলুদ কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খেলেও আপনি এর যথেষ্ট উপকারিতা পাবেন। তাই আপনার ও আপনার পরিবারের মানুষদের ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে কাঁচা হলুদ দিয়ে ত্বকের যত্ন করুন। তবে, কাঁচা হলুদ ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আর্টিকেলটি পড়ে নিশ্চয়ই আপনি কাঁচা হলুদ সম্পর্কে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছেন। তথ্যগুলো যদি আপনার উপকারে আসে তাহলে আপনারা বন্ধু-বান্ধব পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার মতামতটি আমাদের কাছে  মূল্যবান। তাই আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত দিয়ে আমাদের পাশে থাকুন। এরকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। কাঁচা হলুদ আপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হোক এই কামনা করি। ধন্যবাদ



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ট্রাসটেডএয়ার্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪