OrdinaryITPostAd

বাদাম খাওয়ার ১০টি উপকারিতা ও ৫টি অপকারিতা

কলা খাওয়ার অসাধারণ উপকারিতা ও কিছু অপকারিতা সম্পর্কে জানুনআপনি কি বাদাম খেতে অনেক পছন্দ করেন ? আমি কি আপনার অন্যতম প্রিয় খাবার ? আপনি কি জানতে চান বাদাম আপনার শরীরের জন্য উপকার করছে নাকি ক্ষতি ? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। বাদাম একটি প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান, যা অতি সুস্বাদু ও অসংখ্য পুষ্টিগুণে ভরপুর। আজকের আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।
বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
বাদাম খেতে আমরা কমবেশি সবাই পছন্দ করি। কিন্তু বাদাম খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য ভালো নাকি খারাপ সেটা জেনে আপনার বাদাম খাওয়া উচিত। আজকের আর্টিকেলে আপনি বাদাম কি পরিমান খাবেন, এটি খাওয়া ভালো নাকি মন্দ, এর পুষ্টিগুণ ইত্যাদি বিষয়ে সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। আসুন তাহলে জেনে নিন বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত।

পেইজ সূচীপত্রঃ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন বিস্তারিত।

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা 
বাদাম অতি জনপ্রিয় একটি খাবার। এটি আমাদের খাদ্য তালিকায় অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি উপাদান। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বাদাম রাখলে এটি আপনার শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান করবে। কারণ বাদাম অনেক উপকারি একটি উপাদান। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি। বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদান থাকার কারণে এটি আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আপনার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আর শরীরকে বিভিন্ন ধরণের অসুখ-বিসুখ থেকে বাঁচিয়ে রাখে এই সুস্বাদু ফলটি।

বাদাম খাওয়ার যথেষ্ট উপকারিতা আছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। অন্যান্য খাবারের মতো বাদাম খাওয়ারও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। অতিরিক্ত বাদাম খেলে তা আপনার শরীরের জন্য উপকারিতার পরিবর্তে অপকারিতা বয়ে আনবে। বাদাম খেয়ে আপনার শরীরের যেন কোন ক্ষতি না হয় তাই বাদাম খাওয়ার সীমাবদ্ধতাগুলো আপনার অবশ্যই জানা উচিৎ। এজন্য আজকের আর্টিকেলে আমরা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাকে সঠিক ধারণা দেওয়ার জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা।

বাদামে কি কি পুষ্টি উপাদান রয়েছে 

বাদাম শুধু একটি অসম্ভব মজাদার খাবারই নয়, এটি একটি অত্যন্ত পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। আপনি যদি বাদাম খেতে পছন্দ করেন তাহলে বাদাম খাওয়ার আগে আপনার অবশ্যই জেনে নেয়া উচিৎ ছোট্ট এই বীজ বাদামে কি কি পুষ্টি উপাদান রয়েছে ? চলুন তাহলে জেনে নিন বাদামে কি কি পুষ্টি উপাদান রয়েছে-

বাদামে যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে-

বিভিন্ন ধরণের বাদামে বিভিন্ন রকম পুষ্টি উপাদান থাকতে পারে। তবে সাধারণত বাদামে যেসব পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান রয়েছে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ
  • স্বাস্থ্যকর চর্বিঃ বাদামে মনোস্যাচুরেটেড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে যা স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 
  • প্রোটিনঃ  উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি অন্যতম ভালো উৎস হচ্ছে বাদাম। আপনার শরীরের কোষ গঠন ও মেরামত করার জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। 
  • ভিটামিনঃ বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই। যা আপনার ত্বক ও চুলের জন্য অনেক উপকারি। 
  • খনিজ পদার্থঃ বাদামে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, কপার, সেলেনিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা আপনার হাড় শক্ত ও মজবুত করে, শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শারীরিক অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা দূর করার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়।
  • ফাইবারঃ বাদামে ফাইবার থাকে প্রচুর পরিমাণে। আর ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের ওজন ঠিক রাখে।
সুতরাং, বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনি তখনই সঠিক ফলাফল পাবেন যখন বাদামের মধ্যে কি কি পুষ্টি উপাদান আছে সেগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবেন।

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

বাদাম স্বাস্থ্যের জন্য একটি দারুণ উপহার। বাদাম যেমন খেতে মজাদার তেমন পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। বাদাম আপনার শরীরের জন্য অনেক উপকার সাধন করে। ছোট বড় সকলেই বাদাম খেতে পছন্দ করে। বাদাম আপনি এমনি খেতে পারবেন আবার বাদাম দিয়ে বিভিন্ন খাবার বানিয়েও খেতে পারবেন। এটি যেভাবেই খান না কেন, আপনি সবভাবেই এর উপকারিতা পাবেন।চলুন তাহলে বাদাম খাওয়ার উপকারিতাগুলো কি কি তা জেনে নিন- 

বাদাম খাওয়ার উপকারিতাঃ
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ বাদামে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণঃ বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা আপনার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ ক্ষুধা কম লাগে। তাই বাদাম আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
  • মস্তিস্কের স্বাস্থ্যঃ বাদামে ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা মস্তিস্কের কোষকে রক্ষা করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। 
  • হাড়ের স্বাস্থ্যঃ বাদাম হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। কারণ বাদামে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
  • ত্বকের স্বাস্থ্যঃ বাদামে রয়েছে ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। 
  • চুলের স্বাস্থ্যঃ চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে বাদাম। বাদামে থাকা ভিটামিন ই মাথার ত্বক ভালো রাখার জন্য খুবই কার্যকর। এটি চুল মসৃণ ও সুন্দর রাখে।
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ বাদাম আপনার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাদামে থাকা ফাইবার ক্ষুধা কমায় যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভীষণ দরকার।

বাদাম খাওয়ার অপকারিতা

বাদাম খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে এটা ঠিক। তবে কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো না, বরং আরো ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাদাম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জানলে আপনি বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন আর অতিরিক্ত বাদাম খাওয়ার ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। আসুন তাহলে জেনে নিন বাদাম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কেঃ
  • ওজন বৃদ্ধিঃ বাদামে ক্যালোরি এবং ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে ক্যালোরি বেড়ে যাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। 
  • হজমে সমস্যাঃ বাদামে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকলেও অতিরিক্ত ফাইবার পেট ফাঁপা, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। 
  • অ্যালার্জিঃ কিছু মানুষের বাদামে এ্যালার্জি হতে পারে। যার ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি এমনকি আপনার শ্বাসকষ্টও হতে পারে। বাদামে এ্যালার্জি থাকলে এই ফল এড়িয়ে চলুন।
  • কিডনিতে পাথরঃ কিছু বাদামে অক্সালেট থাকে যা কিডনিতে পাথর তৈরি করে।  
  • অতিরিক্ত ভিটামিন-ইঃ বাদামে ভিটামিন-ই এর পরিমাণ বেশি। অতিরিক্ত ভিটামিন-ই আপনার পেটের সমস্যা, মাথাব্যাথা ও অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। 
অতএব, শুধু বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানলেই হবে না, আপনার বাদাম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কেও বিশেষ ধারণা থাকতে হবে।

সকল প্রকার বাদাম ও তাদের পুষ্টিগুণ

সকল প্রকার বাদাম ও তাদের পুষ্টিগুণ
বাদাম শুধু একটি সুস্বাদু ফল নয়,  এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। বিভিন্ন ধরণের বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন,ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও তেলের জরুরি উৎস। আসুন জেনে নিই কিছু জনপ্রিয় বাদামের নাম ও তাদের উপকারিতা সম্পর্কে।

কিছু জনপ্রিয় বাদামের নামঃ কিছু জনপ্রিয় বাদামের নাম নিচে তুলে ধরা হলোঃ
  • কাঠবাদাম (almond)
  • আখরোট (walnut)
  • কাজুবাদাম (Cashew)
  • পেস্তা বাদাম (Pistachio)
  • চীনাবাদাম (Peanut)
  • হ্যাজেলনাট (Hazelnut)
  • ব্রাজিল বাদাম (Brazil Nut)
  • ম্যাকাডামিয়া বাদাম (Macadamia)
এখন চলুন তাহলে এসকল বাদামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
  • কাঠবাদামঃ কাঠবাদামে ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • আখরোটঃ আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড প্রচুর পরিমাণে থাকে।  যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। এছাড়াও এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরকে মুক্ত রেডিকেলের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে। 
  • কাজু বাদামঃ কাঁচা কাজু বাদামে ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক এবং তামা প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • পেস্তা বাদামঃ পেস্তা বাদামে ভিটামিন বি৬, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে।এটি হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে।
  • চীনা বাদামঃ প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন ই থাকে চীনাবাদামে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। 
  • হ্যাজেলনাটঃ হ্যাজেলনাটে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই এবং ফোলেট থাকে প্রচুর পরিমানে। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
  • ব্রাজিল বাদামঃ ব্রাজিল বাদামে সেলেনিয়াম ব্যাপক পরিমাণে রয়েছে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির জন্য স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও এতে ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন ই থাকে।
  • ম্যাকাডামিয়া বাদামঃ ম্যাকাডামিয়া বাদামে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে প্রচুর পরিমাণে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। 

বাদাম শেক এর উপকারিতা: একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়ের রহস্য

বাদাম শেক একটি জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর পানীয়। এর মধ্যে রয়েছে বাদামের সব উপকারিতা এবং দুধের ক্যালসিয়াম। নিয়মিত বাদাম শেক পান করলে আপনি আপনার শরীরে চমৎকার স্বাস্থ্য সম্মত পরিবর্তন দেখতে পাবেন। তাই শরীরকে ভালো ও শক্তিশালী রাখার দারুন একটি পানীয় হিসেবে আপনি বাদাম শেক বেছে নিতে পারেন। আসুন তাহলে জেনে নিন বাদাম শেক এর উপকারিতা সম্পর্কে। 

1.হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ বাদাম শেক হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বেশ সাহায্য করে।
  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণঃ বাদামে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে  ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। 
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ বাদামে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
2. ওজন ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করেঃ বাদাম শেক আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। 
  • দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখেঃ বাদামে থাকা ফাইবার এবং প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যার আপনার ঘন ঘন  খাওয়া বা অতিরিক্ত খাওয়া কমে যায়।
  • চর্বি জমতে বাধা দেয়ঃ বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আপনার শরীরে চর্বি জমতে বাধা সৃষ্টি করে। যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
3.মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি করেঃ বাদাম শেক আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। 
  • স্মৃতিশক্তি বাড়ায়ঃ বাদামে থাকা ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষিত রাখে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
  • মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়ঃ বাদামে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। 
4. অন্যান্য উপকারিতাঃ বাদাম শেক আপনার শরীরের অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের উপকারিতা করে থাকে। যেমন-
  • হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিঃ দুধে থাকা ক্যালসিয়াম এবং বাদামে থাকা ভিটামিন ডি হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করে তোলে।
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ বাদামে অ্যান্টঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
  • ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ বাদামে রয়েছে ভিটামিন ই যা ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে এবং উজ্জ্বল করে তোলে।
সুতরাং বাদাম শেক এর উপকারিতা হলো এটি একটি পুষ্টিকর ও স্বাদীষ্ট পানীয়। এটি আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করে আপনি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, সব কিছুর মতো বাদাম শেকও মিতব্যয়ীভাবে খাওয়া উচিত। এজন্য আপনার বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এই দুটি বিষয়েই ধারনা থাকতে হবে।

রাতে বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

বাদাম হচ্ছে প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। এটিকে প্রকৃতির আমাদের শরীরের জন্য শক্তিশালী ও অনেক পুষ্টি প্রদান কারী উপহার হিসেবে ধরা যেতে পারে। কারণ বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। রাতে বাদাম খেলে যে আপনি শুধু একটি সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার খেলেন তা নয়, এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারি। আসুন তাহলে জেনে নিন রাতে বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। 

রাতে কেন বাদাম খাওয়া আপনার উচিত ? 
  • ঘুম ভালো হবেঃ বাদামে ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে এটি আপনার শরীরকে শান্ত করতে সাহায্য করে, যার ফলে আপনার রাতে ঘুম ভালো হবে। 
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করেঃ বাদামে ফাইবার থাকার কারণে এটি দীর্ঘক্ষন আপনার পেট ভরা রাখে, যার ফলে ক্ষুধা কম অনুভব করবেন। তাই রাতে অন্য কিছু খাওয়ার তেমন ইচ্ছে থাকবে না। ফলস্বরূপ আপনার ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ বাদামে মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকার কারণে এটি আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। 
  • মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখেঃ বাদাম আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। কারণ এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ বাদামে বিদ্যমান রয়েছে ভিটামিন ই ও জিঙ্ক। তাই নিয়মিত বাদাম খেলে আপনার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, ফলে আপনার শরীর থাকবে সুস্থ ও রোগ বালাইমুক্ত। 
সুতরাং বাদাম অসম্ভব উপকারী একটি খাবার। বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি রাতে বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনি নিশ্চয়ই লাভবান হয়েছেন। তবে, মনে রাখতে হবে রাতে বাদাম খাওয়া আপনার শরীরের জন্য অবশ্যই উপকারী কিন্তু সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

চিনা বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

চিনা বাদাম যেমন খেতে মজাদার তেমনি অনেক পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি খাবার। নিয়মিত সঠিক নিয়ম মেনে চিনা বাদাম খেলে আপনি ব্যাপক উপকারিতা পাবেন। রাতে এক মুঠো চিনাবাদাম খাওয়ার অভ্যাস আপনার অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে পারে। চিনাবাদাম খাওয়ার নিয়ম ও উপকারতা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

চিনা বাদাম খাওয়ার উপকারিতাঃ নিচে চিনা বাদাম খাওয়ার উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো- 
  1. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ চিনা বাদাম খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে, কারণ এতে বিদ্যমান আছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড নামক দুটি ফ্যাট। যার ফলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  2. ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ ফাইবার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। আর চিনা বাদামে রয়েছে ফাইবার যা পেট ভর্তি রাখে যার ফলে ক্ষুধা কম লাগে। ক্ষুধা কম লাগার কারণে খাবার কম খাবেন ফলে ওজন কমে যাবে।
  3. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেঃ চিনা বাদামে রয়েছে ওমেগা-৩ যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। 
  4. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করেঃ চিনা বাদাম আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা ধীর গতিতে বৃদ্ধি করে। ফলে যারা ডায়াবেটিস এর রুগী আছেন তাদের জন্য এই বাদাম খাওয়া অনেক উপকারি। 
  5. শক্তি বৃদ্ধি করেঃ শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য চিনা বাদামের উপকারিতা অনেক। এটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা, আপনার শরীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং পেশি গঠনে সাহায্য করে। 
  6. অন্যান্য উপকারিতাঃ চিনা বাদাম আপনার শরীরে অন্যান্য অনেক উপকার করবে। এতে থাকা ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক আপনার ত্বক ও চুল ভালো রাখে, শরীর শান্ত রাখে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ আরো বিভিন্ন ধরণের উপকার করে। 
চিনা বাদাম খাওয়ার নিয়মঃ চিনা বাদাম খাওয়ার নিয়ম নিচে দেয়া হলো-
  1. পরিমাণঃ শরীরে উপকারিতা পেতে আপনি প্রতিদিন ২৫-৩০ গ্রাম চিনা বাদাম খেতে পারেন।
  2. কখন খাবেনঃ চিনা বাদাম খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, যেকোন সময় আপনি বাদাম খেলে উপকার পাবেন। তবে রাতে বাদাম খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।
  3. কিভাবে খাবেনঃ চিনা বাদাম আপনি সরাসরি চিবিয়ে খেতে পারেন আবার বিভিন্ন স্যালাড, আইসক্রিম, দই, অন্যান্য বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারবেন।
  4. ভিজিয়ে খাওয়াঃ আপনি যদি চিনাবাদাম সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খান তাহলে এর পুষ্টি উপাদান বেশি আপনার শরীরে শোষিত হবে।
তাই, বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে উপকৃত হতে চাইলে, আপনার চীনা বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করা উচিত।

বাদাম খাওয়ার বিষয়ে কিছু সতর্কতা

খাদ্য হিসেবে বাদাম একটি অতি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর প্রাকৃতিক উপাদান। কিন্তু বাদামের শতভাগ উপকারিতা আপনি তখনই পাবেন যখন এটি খাওয়ার ব্যাপারে আপনি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আবার, এসব সতর্কতা অবলম্বন না করলে বাদাম আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এ সকল সতর্কতা সম্পর্কে আপনার অবশ্যই জেনে নেয়া দরকার। চলুন তাহলে জেনে নিন বাদাম খাওয়ার বিষয়ে কিছু সতর্কতা। 

1. এলার্জিঃ বাদামে অনেকের এলার্জি হতে পারে। আপনার যদি বাদাম খেয়ে এলার্জি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। বাদামে এলার্জির কিছু লক্ষণ হলোঃ 
  • ত্বক ফুলে যাওয়া।
  • শ্বাসকষ্ট হওয়া।  
  • চুলকানি। 
  • বমি। 
  • ডায়রিয়া। ইত্যাদি 
2. ক্রস-কন্টিমিনেশনঃ বাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় অন্যান্য খাবারের সাথে এটি মিশে যেতে পারে। আপনার যদি বাদামে এলার্জি থাকে তাহলে খাবার কেনার সময় প্যাকেটের লেভেল ভালো করে চেক করে নেন যাতে এতে বাদামের কোন উপাদান না থাকে। 

3. অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়াঃ বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি তাই অতিরিক্ত পরিমাণে বাদাম খেলে এটি আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই সাধারণত দিনে এক মুঠো বাদাম খাওয়া উচিত, এর বেশি নয়।

4. ভেজানো বাদামঃ অনেকে ভেজানো বাদাম খেতে পছন্দ করেন। ভেজানো বাদামের পুষ্টিগুণ বেশি এবং এটি সহজে হজম হয়। কিন্তু ভেজানো বাদাম দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ভেজানো বাদাম ফ্রিজে রাখুন এবং যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে ফেলুন। 

5. বাদামের ধরনঃ বিভিন্ন ধরনের বাদামের পুষ্টিগুণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কোন কোন বাদামে আবার অনেক সময় চিনি অথবা লবণ মিশানো থাকতে পারে। তাই বাদাম কেনার সময় অবশ্যই প্যাকেটের লেভেল ভালোভাবে পড়ে নিন, যাতে আপনার শরীরে কোন ক্ষতি হবে এ ধরনের কোন উপাদান না থাকে। 
6. গলায় আটকে যাওয়াঃ ছোট বাচ্চাদের বাদাম খাওয়ানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন যাতে গলায় আটকে না যায়। বাদাম শক্ত এটি খাওয়ার সময় বাচ্চাদের গলায় আটকে যেতে পারে।

অতএব, বাদামের কার্যকারিতা পুরোপুরি শরীরে শোষণ করার জন্য বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন এবং তার পাশাপাশি বাদাম খাওয়ার যে সতর্কতা গুলো অবশ্যই অবলম্বন করুন।

লেখকের শেষ বক্তব্য। বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানা জরুরী।

সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত বাদাম খান। আর বাদাম খেয়ে সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। বাদাম খাওয়ার উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতা সম্পর্কেও আপনার অবশ্যই জানা উচিত। যাতে এটি খেয়ে আপনার শরীরে কোন রকমে সমস্যার সৃষ্টি না হয়। তবে মনে রাখবেন, বাদাম খেয়ে কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। আর কোন খাবার খাওয়ার আগে সে খাবার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে তবেই সে খাবার খাওয়া উচিত। 

আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন বলেই আশা করছি। নিশ্চয়ই বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই আর্টিকেল থেকে পেয়েছেন। কনটেন্টটি পরে আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে রেগুলার আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন। আর্টিকেলটি বিষয়ে আপনাদের যদি কোন প্রশ্ন থাকে অথবা কোন মতামত থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার ও সুস্থতা কামনা করছি, ধন্যবাদ।






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ট্রাসটেডএয়ার্ডের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪